জান্নাতের সুসংবাদ

“দরূদ শরীফ”

“আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিও। ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন। কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন। কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”

অর্থঃ “হে আল্লাহ্! আপনি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উনার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।”

‘নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ আল্লাহতা’য়ালা নিজেই দিয়েছেন। নবীর প্রতি দরূদ পড়া আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়ন করা। সূরা আহযাবের ৫৬ আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত-দরূদ পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’

আবদুল্লাহ ইবনে আমর আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তার ওপর দশবার দরূদ পাঠ করবেন।’
–(সহিহ মুসলিমঃ ৩৮৪)

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম (আমার নাম উচ্চারিত হল), অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না।’
–(সুনানে তিরমিজিঃ ৩৫৪৬)

রাসূল (সাঃ) এর নাম শোনার পর তার উপর দরূদ না পড়াটা মারাত্মক! প্রায় সময়েই আমরা খুব নর্মালভাবে মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাম উল্লেখ করি, বা শুনি যে অন্য কেউ উল্লেখ করছে, কিন্তু বলার বা শোনার সাথে সাথে “সাল্লাল্লাহু ওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বলিনা। মাত্র ২ সেকেন্ড লাগে বলতে, কিন্তু প্রায় সময়েই খেয়াল থাকেনা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) নাম শুনে যে ব্যক্তি দরূদ পড়ে না তার জন্য জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) বদদোয়া করেছেন আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমীন বলেছেন।

কাব ইবনে উজরা (রা,) বলেন, নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা মিম্বরের কাছে একত্রিত হও। আমরা উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম স্তরে চড়লেন তখন বললেন, হে আল্লাহ কবুল করুন। তারপর যখন দ্বিতীয় স্তরে চড়লেন তখনও বললেন, হে আল্লাহ কবুল করুন। তারপর তৃতীয় স্তরে চড়ে আবারও বললেন, হে আল্লাহ্ কবুল করুন।

খুতবা শেষে যখন মিম্বর থেকে অবতরণ করলেন, তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমরা আপনার থেকে এমন কিছু শুনলাম যা এর পূর্বে আর কখনও শুনিনি। তখন তিনি বললেন, আমার কাছে জিবরাইল (আঃ) এসে বলল, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও তাকে ক্ষমা করা হলো না – সে বঞ্চিত হোক। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্ কবুল করুন। যখন দ্বিতীয় স্তরে চড়লাম তখন তিনি বললেন, যার কাছে আপনার নাম উল্লেখ করা হলো কিন্তু সে আপনার ওপর দরূদ পড়ল না – সেও বঞ্চিত হোক। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ কবুল করুন। যখন তৃতীয় স্তরে চড়লাম, তখন তিনি বললেন, যে পিতা-মাতাকে অথবা তাদের কোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েও তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না সেও বঞ্চিত হোক। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্ কবুল করুন।”

_(বায়হাকিঃ ১৪৬৮)